36July
জুলাইয়ের ইতিহাস

আন্দোলনকারীদের রাস্তা ছেড়ে দিল সেনাবাহিনী: রামপুরায় রণক্ষেত্র মুহূর্তেই রূপ নিল বিজয় উৎসবে

by Ataullah Rahman Polas · · 24 views
আন্দোলনকারীদের রাস্তা ছেড়ে দিল সেনাবাহিনী: রামপুরায় রণক্ষেত্র মুহূর্তেই রূপ নিল বিজয় উৎসবে

ঢাকা — ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত কর্মসূচি 'লং মার্চ টু ঢাকা' ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো রামপুরা-বাড্ডা এলাকাও ছিল চরম উত্তেজনাকর। একদিকে পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল, অন্যদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সতর্ক পাহারা। কিন্তু বেলা গড়িয়ে দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার জন্য মূল সড়কের ব্যারিকেড ছেড়ে দিয়ে পাশে সরে দাঁড়ায় সেনাবাহিনী। আর তখনই রামপুরার রাজপথে শুরু হয় জনতার বাঁধভাঙা বিজয় উল্লাস।


পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও সেনাবাহিনীর সতর্ক অবস্থান চ্যানেল ২৪-এর সরাসরি সম্প্রচারিত সেদিনের ফুটেজ ও প্রতিবেদকের বিবরণ থেকে জানা যায়, রামপুরা ব্রিজের ঠিক কিছুটা দূরে আফতাবনগরের প্রবেশপথে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। মূল সড়কে আসতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ এ সময় শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

পুলিশ কিছুটা পিছু হটার পর শিক্ষার্থীরা যখন মূল সড়কের দিকে এগোতে থাকেন, তখন তাদের সামনে এসে দাঁড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বিশেষ করে এর আগে হামলার শিকার হওয়া রামপুরা বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা সদস্যরা সেখানে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। তারা বারবার শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকতে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করছিলেন, যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।


হঠাৎ বদলে গেল দৃশ্যপট: রাস্তা ছাড়ল সেনাবাহিনী দুপুর ২টার কাছাকাছি সময়ে সেনাপ্রধানের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের খবরের পর পরই রামপুরার পুরো দৃশ্যপট যেন জাদুকরীভাবে বদলে যায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকে থাকা হাজার হাজার ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ স্রোতের মতো মূল সড়কে উঠে আসতে শুরু করেন।

এ সময় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা মূল রাস্তার ব্যারিকেড ছেড়ে দিয়ে নিজেদের সাঁজোয়া যান ও ট্যাঙ্কের ওপরে গিয়ে অবস্থান নেন। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাস্তা ছেড়ে দিয়ে কেবল শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ করেন। সেনাবাহিনীর এই ইতিবাচক ও জনবান্ধব ভূমিকায় উচ্ছ্বসিত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হাত নেড়ে ও স্লোগান দিয়ে সেনা সদস্যদের অভিবাদন জানাতে থাকেন।


রণক্ষেত্র থেকে বিজয় উৎসব সকাল থেকে যে রাজপথ ছিল ভয় আর আতঙ্কের, দুপুরের পর সেই রাজপথ পুরোপুরি ছাত্র-জনতার দখলে চলে যায়। সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ মিছিল মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নেয় এক বিশাল উৎসব ও বিজয় মিছিলে।

রামপুরা ব্রিজের ওপর থাকা যে পুলিশ বক্সটি কয়েক দিন আগের সংঘাতে আগুনে পুড়ে গিয়েছিল, বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠা ছাত্র-জনতা সেই বক্সের ছাদেই উঠে পড়েন এবং সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের পতাকা ওড়াতে থাকেন। মানুষের চোখে-মুখে ছিল দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ের তৃপ্তি এবং স্বৈরাচার পতনের চূড়ান্ত আনন্দ।


উপসংহার ৫ আগস্ট রামপুরায় সেনাবাহিনীর ব্যারিকেড ছেড়ে দেওয়া এবং জনতার স্বতঃস্ফূর্ত বিজয় উল্লাস ছিল মূলত পুরো বাংলাদেশের সেদিনের সার্বিক চিত্র। ছাত্র-জনতা ও সেনাবাহিনীর এমন সম্প্রীতির দৃশ্যই জানান দিচ্ছিল—দীর্ঘ লড়াই, আত্মত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে অবশেষে নতুন এক ভোরের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts