36July
জুলাই গণঅভ্যুত্থান

৩৬ জুলাই: রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও এক নতুন বাংলাদেশের জন্ম

by Ataullah Rahman Polas · · 50 views

ঢাকা — '৩৬ জুলাই', যা ক্যালেন্ডারের পাতায় ৫ আগস্ট, ২০২৪। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় এটি নিছক কোনো তারিখ নয়, বরং ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের নাম। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া ৩৬ দিনের এক রক্তক্ষয়ী, দীর্ঘ ও প্রতিবাদী যাত্রার চূড়ান্ত বিজয়ের দিন এটি, যেদিন স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়ে এক নতুন বাংলাদেশের সূর্যোদয় হয়েছিল।

আন্দোলনের সূত্রপাত ও রূপান্তর জুলাই মাসের শুরুতে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'-এর ব্যানারে সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও কোটা সংস্কারের দাবিতে মাঠে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সম্পূর্ণ অহিংস ও শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন আচমকাই ভিন্ন মোড় নেয় যখন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির ওপর দমন-পীড়ন শুরু হয়। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের বুলেটের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা বীর আবু সাঈদের আত্মত্যাগ এবং ঢাকায় মুগ্ধ, ফারহানসহ অসংখ্য শিক্ষার্থীর রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার পর এই আন্দোলন আর কেবল কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ থাকেনি।

এক দফা ও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচার গুলি, টিয়ারশেল এবং ধরপাকড় পুরো জাতিকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। অভিভাবক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, শ্রমিক থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ায়। ছাত্রদের দাবি দ্রুতই রূপ নেয় সরকারের পদত্যাগের 'এক দফা' দাবিতে। জারি করা হয় কারফিউ, বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট। কিন্তু বুলেটের ভয় বা কোনো রাষ্ট্রীয় বাধাই এই গণজাগরণকে রুখতে পারেনি।

৩৬ জুলাইয়ের চূড়ান্ত বিজয় ৫ আগস্ট, অর্থাৎ ছাত্র-জনতার ঘোষিত '৩৬ জুলাই'-এ "মার্চ টু ঢাকা" কর্মসূচিতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে ঢাকার রাজপথে। গণভবন অভিমুখে ছুটে চলা এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দেয় যে, ক্ষমতার মসনদ আর সুরক্ষিত নেই। প্রবল গণরোষের মুখে টানা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

বিকেলের দিকে আনন্দিত জনতা যখন গণভবন ও জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে, তখন সেটি শুধু কোনো স্থাপনার দখল ছিল না, বরং তা ছিল দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও স্বৈরাচারের অবসানের এক প্রতীকী চিত্র।

আত্মত্যাগ ও ইতিহাস এই বিজয়ের পেছনে রয়েছে শত শত তাজা প্রাণের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য মানুষের পঙ্গুত্ব বরণ। '৩৬ জুলাই' তাই শুধু একটি বিজয়ের উল্লাস নয়, এটি চরম শোক ও বেদনারও ইতিহাস। যে তরুণেরা নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও বাকস্বাধীনতার নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, জাতি তাদের এই ঋণ চিরকাল মনে রাখবে।

আজকের এই নতুন বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি সত্যিকারের বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা, যে স্বপ্ন নিয়ে রচিত হয়েছিল '৩৬ জুলাই'-এর এই মহাকাব্য।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts