36July
জুলাই ৩৬

এক বছরের মধ্যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব মামলার বিচার শেষের লক্ষ্য, তদন্ত হচ্ছে ৩ হাজার ক্রসফায়ারের: চিফ প্রসিকিউটর

by Ataullah Rahman Polas · · 28 views
এক বছরের মধ্যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব মামলার বিচার শেষের লক্ষ্য, তদন্ত হচ্ছে ৩ হাজার ক্রসফায়ারের: চিফ প্রসিকিউটর

ঢাকা — ২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম। একইসঙ্গে গত ১৫ বছরে সংঘটিত গুম এবং প্রায় ৩ হাজার ক্রসফায়ারের অভিযোগও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে মামলার এসব হালনাগাদ অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।


জুলাই মামলার অগ্রগতি: প্রতি মাসে জোড়া রায়ের লক্ষ্য চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত জুলাই-আগস্টের ঘটনা নিয়ে ৫৯০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্য থেকে সারা দেশের সার্বিক চিত্র কভার করে এমন ১০৯টি অভিযোগ বাছাই করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি তদন্ত শেষ হয়েছে এবং ৬টি মামলার বিচার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে ২৬-২৭টি মামলার বিচার চলছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের সর্বশক্তি ও মেধা নিয়োগ করে আমরা বিরামহীনভাবে কাজ করছি। আগামী এক বছরের মধ্যে জুলাইয়ের সব ঘটনার তদন্ত এবং বিচার শেষ করার চেষ্টা করব। আমরা এমন একটা পর্যায়ে কাজ নিয়ে এসেছি, যাতে প্রতি মাসে অন্তত একটি বা দুটি মামলার রায় (জাজমেন্ট) ঘোষণা করা সম্ভব হয়।"


যাত্রাবাড়ী হত্যাকাণ্ডে ৮৫ জন শহীদ শনাক্ত, তদন্তে নতুন কৌশল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের একটি স্থান ছিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী। চিফ প্রসিকিউটর জানান, যাত্রাবাড়ীতে প্রাথমিকভাবে ৮৫ জন শহীদের একটি তালিকা পাওয়া গেছে এবং তদন্ত শেষে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে সোহেল রানা নামের এক শহীদকে প্রথমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হলেও পরে তাকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।

তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে প্রসিকিউশন নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে। தனித்தনি (ইন্ডিভিজ্যুয়াল) তদন্ত না করে দিনভিত্তিক (ডে-ওয়াইজ) ঘটনাগুলোকে একত্রিত (কনসোলিডেট) করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। যেমন—১৬, ১৯ বা ২০ তারিখে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডকে একটি ইনভেস্টিগেশনের আওতায় এনে বহু আসামি ও বহু শহীদের ঘটনা এক বিচার প্রক্রিয়ায় শেষ করা হবে। ইতোমধ্যে শহীদ তাইম ভূঁইয়াসহ যাত্রাবাড়ীর কয়েকটি ঘটনার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।


গুম ও ৩ হাজার ক্রসফায়ারের বিচার শুধু জুলাই অভ্যুত্থানই নয়, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বিরোধী মত দমনের নামে সংঘটিত গুম ও খুনের বিচারও শুরু হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, সারা দেশে প্রায় ৩ হাজারেরও অধিক ক্রসফায়ারের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বহুল আলোচিত কক্সবাজারের কমিশনার একরাম হত্যা, শাপলা চত্বরের ঘটনা, এবং রাজশাহী ও মোহাম্মদপুরের বড় ক্যাজুয়ালটিগুলোর তদন্ত ও বিচারকাজ শুরু হয়েছে।

পাশাপাশি, মুন্সিগঞ্জ ও মাতুয়াইলের মতো জায়গায় থাকা গণকবর এবং সুন্দরবনের গহিন অঞ্চলে থাকা গোপন টর্চার সেলগুলো পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গুম ও ক্রসফায়ারের দুটি মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও তারেক সাঈদকে আগামী ১০ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আইনগত সুযোগ চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে সরাসরি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও, বিচার শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। ইতোমধ্যে যে ৬টি মামলার বিচারকার্য শেষ হয়েছে, তার প্রতিটিতে আসামিদের জরিমানা করা হয়েছে এবং সেই জরিমানার টাকা আদায় সাপেক্ষে শহীদ পরিবারকে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রাবাড়ীসহ আগামী দিনের মামলাগুলোতেও একই রকম ক্ষতিপূরণের আদেশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে প্রসিকিউশন।


উপসংহার চিফ প্রসিকিউটরের এই ব্রিফিং শহীদ পরিবার ও সাধারণ মানুষের মনে ন্যায়বিচারের বড় আশা জাগিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব চাঞ্চল্যকর ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন হলে তা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts