36July
জুলাই ৩৬

‘আন্দোলনকারীদের রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব’: জুলাইয়ের নারকীয় হামলার পর জাতিসংঘের বিবৃতি

by Ataullah Rahman Polas · · 12 views
‘আন্দোলনকারীদের রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব’: জুলাইয়ের নারকীয় হামলার পর জাতিসংঘের বিবৃতি

ঢাকা — ২৪-এর কোটা সংস্কার আন্দোলন শুধু দেশের রাজপথেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং শিক্ষার্থীদের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রের পৈশাচিক হামলা নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্ববিবেককে। ১৬ জুলাই রংপুরে শহীদ আবু সাঈদসহ সারা দেশে ছয়জন শিক্ষার্থীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নড়েচড়ে বসে। ঠিক এর পরদিনই, ১৭ জুলাই জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের এই ছাত্র হত্যা ও হামলার কড়া সমালোচনা করে তৎকালীন সরকারকে সুস্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।


জাতিসংঘের প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের চিত্র ১৭ জুলাই জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে তথাকথিত কোটা প্রথার পরিবর্তে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন চলছে। কিন্তু সরকারের মদদপুষ্ট ছাত্র সংগঠন (ছাত্রলীগ) এবং নিরাপত্তা বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইতোমধ্যে ৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।" তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব এই বিষয়ে অবগত আছেন কি না, তা জানতে চান।


জাতিসংঘের কড়া জবাব ও নজরদারি সাংবাদিকের এই উদ্বেগজনক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, তারা বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর গভীরভাবে নজর রাখছেন। তিনি বলেন, "হ্যাঁ, আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবগত আছি এবং বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।"


‘প্রতিবাদ করা মানুষের মৌলিক মানবাধিকার’ তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের দমন-পীড়নের দিকে সরাসরি আঙুল তুলে জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন, "বাংলাদেশ হোক বা বিশ্বের অন্য যেকোনো জায়গা, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা মানুষের একটি মৌলিক মানবাধিকার।"

তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কড়া আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন আন্দোলনকারীদের যেকোনো ধরনের হুমকি বা সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে যারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছে এবং যাদের বাড়তি সুরক্ষা প্রয়োজন—যেমন তরুণ সমাজ, শিশু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা।"

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং সরকারগুলোর দায়িত্ব হলো সেই অধিকারকে রক্ষা করা।


উপসংহার জুলাই বিপ্লবের ইতিহাসে জাতিসংঘের এই বিবৃতিটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রযন্ত্র ও দলীয় ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে দেশের ভেতরে যে নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছিল, জাতিসংঘের এই কড়া বার্তা প্রমাণ করেছিল যে, পুরো বিশ্ব এই বর্বরোচিত হামলার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের এই প্রবল চাপ পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের মনোবল আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করেছিল।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts