36July
জুলাই ৩৬

‘আমি আর এক ফোঁটা রক্ত চাই না’: ৫ আগস্ট সকালে সেনাপ্রধানের ৩ বার্তার নেপথ্যের গল্প

by Ataullah Rahman Polas · · 23 views
‘আমি আর এক ফোঁটা রক্ত চাই না’: ৫ আগস্ট সকালে সেনাপ্রধানের ৩ বার্তার নেপথ্যের গল্প

ঢাকা — ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। ছাত্র-জনতার উত্তাল গণমার্চের মুখে সেদিন দুপুরে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু ওই দিন সকালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল? কীভাবে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল? সম্প্রতি এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে ৫ আগস্টের সকালে সেনাপ্রধানের বাসভবন ও সেনা সদরের অজানা সব রোমাঞ্চকর তথ্য।


সেনাপ্রধানের জরুরি তলব ও ৩টি স্পষ্ট বার্তা অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, ৪ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাকে ফোন করে পরদিন সকালে তার বাসভবনে যেতে বলেন। ৫ আগস্ট সকাল ঠিক ১০টায় তিনি সেনাপ্রধানের বাসায় উপস্থিত হন। সেনাপ্রধান তখন ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

সেনাপ্রধান ওই কর্মকর্তাকে ডেকে স্পষ্ট ৩টি বার্তা দেন: ১. "আমি আর এক ফোঁটা রক্তও ঝরুক, তা চাই না।" ২. "আমি কোনো ক্ষমতা চাই না।" ৩. "আমি এই বর্তমান পরিস্থিতির অবসান চাই এবং একটি রাজনৈতিক সমাধান চাই।"

যেহেতু ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার রাজনৈতিক অঙ্গনে ভালো যোগাযোগ ছিল, তাই সেনাপ্রধান তাকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সেনা সদরে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেন।


ভারতীয় সেনাপ্রধানের ফোনকল বৈঠক চলাকালেই সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে সেনাপ্রধান জানান যে, ঠিক ১০টা ৩০ মিনিটে তাকে ভারতীয় সেনাপ্রধান টেলিফোন করবেন। গোপনীয়তার স্বার্থে ওই কর্মকর্তা সেনাপ্রধানকে একান্তে কথা বলার সুযোগ দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।


রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ সেনাপ্রধানের বাসা থেকে বেরিয়েই ওই কর্মকর্তা গলফ কোর্সে যান এবং সেখান থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফোন করে সেনাপ্রধানের বার্তা পৌঁছে দেন। মির্জা ফখরুল এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। এরপর অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে সেনা সদরে আসার বার্তা দেওয়া হয়।


গণভবনে তিন বাহিনী প্রধানের যাত্রা সকাল ১১টার দিকে ওই কর্মকর্তা রাওয়া (RAOWA) ক্লাবের সামনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, সেনাপ্রধানসহ তিন বাহিনীর প্রধান গণভবনে গেছেন এবং তারা শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার জন্য বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন (পারসুয়েড করেছেন)।


বঙ্গভবনে ‘আয়নাঘর’ নিয়ে আলোচনা ওই দিন বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের সময় ওই কর্মকর্তা ‘আয়নাঘর’ এবং সেখানে বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান, ডিজিএফআই-এর সামনে নিখোঁজদের স্বজনরা ভিড় করেছেন। রাষ্ট্রপতি শুরুতে ‘আয়নাঘর’ সম্পর্কে কিছুটা বিস্ময় ও সন্দেহ প্রকাশ করলেও, সেখানে উপস্থিত সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাৎক্ষণিক স্টেজে দাঁড়িয়ে বলেন, "স্যার, আমি বিষয়টা দেখছি। আমরা তাদের রিলিজ করে দেব।"


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts