‘আমার ছাত্রের মুখ চেপে ধরার সাহস কে দিয়েছে আপনাদের?’: ঢাবি শিক্ষকের যে অগ্নিকণ্ঠে কেঁপেছিল পুলিশ
ঢাকা — ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শুধু শিক্ষার্থীরাই রক্ত বা নির্যাতনের শিকার হননি, বরং অনেক শিক্ষকও পরম মমতায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের ছাত্রদের রক্ষায়। পুলিশের রক্তচক্ষু ও বেয়নেটের সামনে দাঁড়িয়ে তারা প্রমাণ করেছিলেন, শিক্ষকরা কখনোই তাদের সন্তানদের বিপদে একা ফেলে যান না। এমনই এক অবিস্মরণীয় ও আইকনিক ঘটনার জন্ম হয়েছিল ১ আগস্ট ২০২৪-এর উত্তাল রাজপথে।
সেদিন এক ছাত্রকে আটকের সময় পুলিশ তার মুখ ও গলা চেপে ধরে। চোখের সামনে এমন অমানবিক দৃশ্য দেখে স্থির থাকতে পারেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। তিনি সরাসরি পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যে বজ্রকণ্ঠে প্রতিবাদ করেছিলেন, তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো দেশের মানুষের হৃদয়ে।
‘চুপ থাকি বলেই এরা সাহস পায়’ কালবেলার ক্যামেরায় ধারণ করা সেদিনের সেই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তীব্র ক্ষোভ ও সাহসিকতার সাথে ড. সায়মা ফেরদৌস পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, "একটা স্বাধীন দেশে এত ভয়ে বাঁচব কেন? কী জন্য বলেন? আমরা চুপ থাকি বলেই এরা সাহস পায়।"
পুলিশ সদস্যদের সরাসরি উদ্দেশ করে এই সাহসী নারী শিক্ষক হুংকার দিয়ে বলেন, "আমার ছাত্রের মুখ চেপে ধরার সাহস কে দিয়েছে আপনাদের? আমার ছাত্রের গলা ধরার সাহস কে দেয় আপনাদের?"
‘১৮ কোটি বাঙালি নামবে’ ফ্যাসিস্ট সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দম্ভ চূর্ণ করে দিয়ে তিনি সেদিন যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তা পরবর্তীতে বাস্তবেই রূপ নিয়েছিল। ড. সায়মা ফেরদৌস বলেন, "কতজনের জবান বন্ধ করবেন আপনারা? একজনের করবেন, দশজন দাঁড়াব। দশজনের বন্ধ করলে হাজার মানুষ দাঁড়াবে। আঠারো কোটি বাঙালি নামবে।"
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা বুলেটে কেন সাধারণ ছাত্রদের মারা হবে—সেই প্রশ্নও সেদিন জোরালোভাবে তুলেছিলেন তিনি।
উপসংহার জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের এবং শিক্ষকদের যে সম্মুখসারির ভূমিকা ছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষকের প্রতিবাদ তারই এক অন্যতম সেরা দৃষ্টান্ত। ড. সায়মা ফেরদৌসের সেই অকুতোভয় অগ্নিকণ্ঠ শুধু উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরই স্তব্ধ করেনি, বরং ভয়ের সংস্কৃতিতে আবদ্ধ পুরো জাতিকে নতুন করে জেগে ওঠার সাহস জুগিয়েছিল। তার এই প্রতিবাদ ইতিহাসের পাতায় স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Comments (0)
Login to leave a comment.
No comments yet. Be the first to comment.
Related posts
জুলাই আন্দোলন
‘পুলিশের পায়ে এখন পলায়নপর দশা’: ৪ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ঝটিকা আক্রমণে থানা ও পার্টি অফিস ঘেরাও
জুলাই আন্দোলন
৪ আগস্ট: নেত্রকোনার রাজপথে লাঠিসোঁটা হাতে তারুণ্যের ঢল, ধাওয়া খেল পুলিশ
জুলাই আন্দোলন