36July
জুলাই আন্দোলন

২৭ জুলাই: ডিবি হেফাজতে ৫ সমন্বয়ক, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

by Ataullah Rahman Polas · · 30 views
২৭ জুলাই: ডিবি হেফাজতে ৫ সমন্বয়ক, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ঢাকা — ২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিনপঞ্জিতে ২৭ জুলাই ছিল এক চরম উৎকণ্ঠা ও নাটকীয়তার দিন। একদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাঁচ সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম এবং হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কান্না—সব মিলিয়ে দিনটি ছিল নানা ঘটনাপ্রবাহে ভরপুর।


ডিবি হেফাজতে পাঁচ সমন্বয়ক ও দেশজুড়ে উদ্বেগ ২৭ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরও দুই সমন্বয়ক—সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। এর আগে থেকেই নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদার ডিবির হেফাজতে ছিলেন। তৎকালীন ডিবি ও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, "নিরাপত্তার স্বার্থেই" তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ডিবি কার্যালয়ে গেলেও তাদের সাথে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান ডিবির প্রধান। অন্যদিকে, বিশ্বের ১৪০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারকে চিঠি দেন।


প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান ও ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম কোটা সংস্কার নিয়ে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ২৭ জুলাই রাতে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ, রিফাত রশীদ ও মাহিন সরকার তিন দফা দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল: ১. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদসহ আটক সকল শিক্ষার্থীর মুক্তি। ২. মামলা প্রত্যাহার। ৩. শিক্ষার্থী হত্যার সাথে জড়িত মন্ত্রী থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। তারা হুঁশিয়ারি দেন, ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে এই দাবিগুলো মানা না হলে ২৯ জুলাই থেকে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ততদিনে সহিংসতায় ২৬৬ জন নিহত হয়েছেন।


শেখ হাসিনার হাসপাতাল পরিদর্শন ও কান্না ২৭ জুলাই পঙ্গু হাসপাতালে সহিংসতায় আহতদের দেখতে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে গিয়ে তিনি আবারও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, "এত মানুষের প্রাণহানি সরকার কখনোই চায়নি।" তবে সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীদের কাছে তার এই কান্না 'মেকি' ও 'অভিনয়' হিসেবেই বিবেচিত হয়, কারণ দেশজুড়ে তখনো ব্লক রেইড, গণগ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন চলছিল। এদিন পর্যন্ত সারাদেশে সাত হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ৭৩৬টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।


রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া এই দিন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের 'দ্য হিন্দু' পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানান। এছাড়া বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন সমন্বয়কদের ডিবি হেফাজতে নেওয়ার এই ঘটনাকে 'নজিরবিহীন' ও 'ন্যক্কারজনক' আখ্যা দিয়ে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায়।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts